ডেমরায় সবজি বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা: আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারকৃত কারাগারে
রাজধানীর ডেমরা এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক সবজি বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ইয়াকুব আলীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ভুক্তভোগী মহসিন (৪৫) বর্তমানে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ ও গ্রেফতার
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ডেমরার সারুলিয়া থানার তালতলা এলাকায়। সবুর খানের গ্যারেজের সামনে ভ্যানগাড়িতে করে তরকারি বিক্রি করছিলেন মহসিন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে আলী হোসেনের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাকে ধরে রাখে। পরে ইয়াকুব ধারালো ছুরি দিয়ে মহসিনের গলার বাম পাশে, মাথার পেছনে, পিঠের ডান পাশে এবং গালের ডান পাশে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
মহসিনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আদালতের নির্দেশ ও মামলা দায়ের
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সারুলিয়া এলাকা থেকে ইয়াকুব আলীকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন ভোর পৌনে ৪টার দিকে ভুক্তভোগীর স্ত্রী রাজিয়া বেগম দুইজনের নাম উল্লেখসহ আরও ২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ডেমরা থানায় মামলা করেন। দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিকালে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারকৃত আসামি মো. ইয়াকুব আলী মাদারীপুর জেলার কালকিনী থানার পরগোনা গ্রামের মো. নুর ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সে ডেমরার সারুলিয়া ওয়াসা রোড এলাকার জলিল মেম্বারের বাড়ির ভাড়াটিয়া। অপর পলাতক আসামি আলী হোসেন (৪২) বরিশাল জেলার আগৈলঝারা থানার আন্দারমানিক গ্রামের মিন্টু খলিফার ছেলে। সে বর্তমানে সারুলিয়ার মঠবাড়ি এলাকায় বসবাস করছে।
পুলিশের তদন্ত ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ভুক্তভোগীর স্ত্রী রাজিয়া বেগম জানান, পারিবারিক একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, "আমাদের পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা ছিল। এই ঘটনা সেই শত্রুতারই ফল।"
এ বিষয়ে ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা ঘটনার তদন্ত জোরদার করেছি এবং দ্রুত বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।"
এই ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
