ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে র্যাবের কঠোর পদক্ষেপ
ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে যেকোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ (র্যাব-১০) এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। আজ মঙ্গলবার সকালে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘোষণা দেন।
কন্ট্রোল রুম স্থাপন ও যাত্রী সুরক্ষা
কামরুজ্জামান বলেন, ‘সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। কোনো যাত্রী যদি টিকিটের মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় বা অন্য কোনো হয়রানির শিকার হন, তাহলে তারা সরাসরি আমাদের কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করতে পারবেন। আমরা দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অপরাধ দমন করে এবারের ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে র্যাব সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এই লক্ষ্যে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন তিন স্তর বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার
ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাবের ৩২টি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সদরঘাট, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর, সূত্রাপুর এবং ডেমরা এলাকায় এই টিমগুলো সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির জন্য ছয়টি সিভিল টিমও কাজ করবে বলে জানান এই র্যাব কর্মকর্তা।
ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঝুঁকি রোধে বিশেষ তৎপরতা
ঈদের ছুটিতে ঢাকা শহর প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়, যার সুযোগ নিয়ে ছিনতাই ও চুরির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, ‘এই সময়ে বাসা-বাড়িতে চুরির মতো ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আমরা গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা, বিশেষ করে রাতের বেলায় আমাদের তৎপরতা অনেক বেশি রাখব। খালি বাসাগুলোতে যেন চুরি না হয়, সেদিকে আমরা অত্যধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, হয়রানির শিকার হয়ে কোনো যাত্রী যদি কন্ট্রোল রুমে ফোন করে অভিযোগ জানান, তাহলে র্যাব দ্রুততম সময়ে সহায়তা প্রদান করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাই র্যাবের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে র্যাব আশা করছে যে, ঈদযাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও ন্যায্য মূল্যে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং কোনো ধরনের হয়রানি বা অর্থনৈতিক শোষণের মুখোমুখি হতে হবে না।
