টিকটকার আঁখি গ্রেফতার: রামু হত্যা মামলার প্রধান আসামি ধরা পড়ল র্যাবের হাতে
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর বেলাল উদ্দিন জিহাদ (২২) হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ও নিহতের স্ত্রী তাহেরা বেগম আঁখিকে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘টিকটকার’ হিসেবে পরিচিত এই আসামিকে সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে উখিয়া থানাধীন কোটবাজার এলাকা থেকে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়।
গ্রেফতারের বিস্তারিত বিবরণ
র্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উখিয়ার কোটবাজার এলাকা থেকে তাহেরা বেগম আঁখিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি উখিয়া উপজেলার খুলিয়াপালং ইউনিয়নের দরিয়ার দিঘী এলাকার বাসিন্দা এবং তার পিতার নাম মোহাম্মদ মুসা। অন্যদিকে, নিহত বেলাল উদ্দিন জিহাদ রাজারকুল ইউনিয়নের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পেশায় একজন টমটম চালক হিসেবে কাজ করতেন।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও তদন্ত
গত ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে বেলাল উদ্দিন জিহাদের গলাকাটা ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান আসামি তাহেরা বেগম আঁখি আত্মগোপনে চলে যান। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বাদী হয়ে রামু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব-১৫ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়ার কোটবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া ও র্যাবের ভূমিকা
র্যাব সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব-১৫ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। এই গ্রেফতার স্থানীয় অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ঘটনাটি কক্সবাজার অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত অপরাধ কেস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারী একজন ব্যক্তি গুরুতর অপরাধের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। র্যাবের দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতার কার্যক্রম প্রশংসা কুড়িয়েছে স্থানীয় জনগণের মধ্যে।
