ঢাকার বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য আটক, জব্দ এক কোটি টাকার মালামাল
বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য আটক, জব্দ এক কোটি টাকার মালামাল

ঢাকার বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য আটক, জব্দ এক কোটি টাকার মালামাল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে বিমানবন্দরের আগমনী ক্যানোপি-১ এর বাইরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা রাসেল আহমেদ (২৯) নামের এই ব্যক্তিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে এপিবিএন সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে।

জব্দকৃত মালামালের বিশদ বিবরণ

পরে এপিবিএন অফিসে নিয়ে গিয়ে তার শরীর তল্লাশি করা হলে রাসেলের কাছ থেকে মোট ৪৯৮ দশমিক তিন গ্রাম স্বর্ণালংকার, ছয়টি মোবাইল ফোন ও তিনটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত এসব মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি ছয় লাখ ৪১ হাজার ৯১০ টাকা। এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার রাতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও চোরাচালান পদ্ধতি

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাসেল আহমেদ স্বীকার করেছেন যে, তিনি বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতনামা যাত্রীদের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে মূল্যবান জিনিসপত্র আনানোর কাজে জড়িত। তদন্তে জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং তিনি মূলত রিসিভার হিসেবে কাজ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিমানবন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এপিবিএনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এ বিষয়ে এপিবিএনের অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, "এয়ারপোর্টে চোরাচালান রোধ ও অন্যান্য অপরাধ দমনে আমাদের দল সব সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান রোধে আমাদের কার্যক্রম আগের মতোই জোরদার ও অব্যাহত থাকবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের অভিযান বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতেও অনুরূপ সতর্কতা বজায় রাখা হবে।

এই ঘটনাটি বিমানবন্দর এলাকায় চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশা করছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শুল্ক রাজস্ব রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।