উত্তরায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে হেলমেটধারী দুর্বৃত্তদের গুলি হামলা
রাজধানীর উত্তরায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ির লক্ষ্য করে হেলমেট পরা দুই দুর্বৃত্ত গুলি চালিয়েছে। তারা মোটরসাইকেলে করে এসে এই হামলা চালায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ২১ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে এই গুলির ঘটনা ঘটে। বাড়ির মালিক আবুল কাশেম পেশায় একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী এবং এ কে এস বি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে পরিচিত। ঘটনার পর পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে।
হামলার বিবরণ
ওই ব্যবসায়ীর এক আত্মীয়ের বরাতে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে বাড়ির গেটে দুটি গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ বাড়ির সামনে থেকে আরও দুটি তাজা গুলির খোসা উদ্ধার করে, যা হামলার তীব্রতা নির্দেশ করে। ঘটনার পর বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে পুলিশ দেখতে পায়, হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে এসে প্রথমে বাড়িটি রেকি করে। পরে সামনের রাস্তায় লোকজনের যাতায়াত কমে এলে তারা আবার ফিরে এসে গুলি ছোড়ে এবং পাশের একটি গলি দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, “গুলির সময় আমি পার্কিং এলাকায় ইফতার প্রস্তুত করছিলাম। হঠাৎ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি করে দ্রুত চলে যায়, যা আমাকে ভীত করে তোলে।” তার এই বক্তব্য ঘটনার আকস্মিকতা ও ভীতিকর পরিবেশ তুলে ধরে।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
এ বিষয়ে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুনিরুজ্জামান বলেন, মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি এসে ৭ নম্বর সেক্টরের ওই বাড়ির স্টিলের গেটে দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। পুলিশ এখন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে, যা অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
এই ঘটনা উত্তরায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা জোরদার করতে উৎসাহিত করছে। পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও পদক্ষেপ আশা করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে।
