রাজধানীতে মানব কঙ্কাল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, ৪৭টি খুলি ও হাড় উদ্ধার
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি অভিযানে মানব কঙ্কাল চোর চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় মোট ৪৭টি মানুষের মাথার খুলি ও বিপুল পরিমাণ হাড়সহ কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ এই অভিযান চালায় এবং মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন:
- কাজী জহরুল ইসলাম ওরফে সৌমিক (২৫ বছর)
- মো. আবুল কালাম (৩৯ বছর)
- আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদ (৩২ বছর)
- মো. ফয়সাল আহম্মেদ (২৬ বছর)
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই চক্রটি ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মরদেহের কঙ্কাল উত্তোলন করতো।
চক্রের কার্যক্রম ও বিক্রি পদ্ধতি
চক্রটি রাজধানীর উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর কাছে কঙ্কালগুলো ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। শিক্ষার্থীরা কলেজ হোস্টেলে নিজেদের রুমে কেমিকেল দিয়ে প্রসেসিং করার পর ফেসবুকের প্রাইভেট গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় সেগুলো পুনরায় বিক্রি করতো।
অভিযানের ধারাবাহিকতা
তেজগাঁও থানা সূত্রে জানা যায়, থানা এলাকার আভিযানিক টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে তেজগাঁও থানাধীন মনিপুরীপাড়াস্থ ১নং গেটের সম্মুখে রাস্তার ওপর অবৈধ উপায়ে কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি অবস্থান করছে।
উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ২টায় অভিযান পরিচালনা করে কাজী জহুরুল ইসলাম ওরফে সৌমিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত হতে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল আনুমানিক সোয়া ৭টার দিকে তেজগাঁও কলেজের সামনে অভিযান পরিচালনা করে মো. আবুল কালাম ও আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে দুইটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে দেশের বিভিন্ন কবরস্থান হতে অবৈধভাবে গোপনে কবর খুঁড়ে মানব কঙ্কাল চুরি করে রাখা উত্তরা পশ্চিম থানাধীন উত্তরার সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজের হোস্টেলে অভিযান চালিয়ে মো. ফয়সাল আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত হতে ৪৪টি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা
এ সংক্রান্তে গ্রেপ্তার বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এই চক্র গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন কবরস্থান থেকে মানব কঙ্কাল চুরি করে বিভিন্ন জনের কাছে চড়া দামে বিক্রি করতো।
গ্রেপ্তার হওয়া মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ২১টি এবং গ্রেপ্তারকৃত আসাদুল মুন্সী ওরফে জসিম ওরফে এরশাদের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, এই অভিযানটি মানব কঙ্কালের অবৈধ বাণিজ্য রোধে পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
