কোস্টগার্ডের আটক থেকে বাঁচতে নদীতে লাফ দিয়ে জেলে নিখোঁজ, বরগুনায় উত্তেজনা
বরগুনার পাথরঘাটায় কোস্টগার্ডের আটক থেকে বাঁচতে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় বিষখালী নদীতে লাফ দিয়ে একজন জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে অবৈধ ট্রলিং অভিযানে আটক হওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের জানপাড়া গ্রামের বান্দাঘাটা খাল থেকে কোস্টগার্ডের সদস্যরা এফবি আব্দুল্লাহ ট্রলারের মাঝি মাসুদ খলিফা (৪০) ও মিস্ত্রি মো. মুনসুর মিয়াকে আটক করে। তাদের বাড়ি একই উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নে। আটকের সময় ট্রলারে প্রায় ২৫ মন মাছ জব্দ করা হয়, যা পরে কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
নদীতে লাফিয়ে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনা
আটকের পর ট্রলারসহ আটক দুই জেলেকে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড স্টেশনে নিয়ে আসার পথে রাত ১২টার দিকে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় মাসুদ মাঝি বিষখালী নদীতে ঝাঁপ দেন। এতে তিনি নিখোঁজ হন এবং এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
নিখোঁজ মাঝি মাসুদ খলিফার স্ত্রী নুপুর বেগম জানান, রাত ১২টার দিকে কোস্টগার্ডের ৩ থেকে ৪ জন সদস্য তাদের বাসায় এসে তল্লাশি চালায় এবং তার কাছ থেকে ভিডিওতে বক্তব্য নেয়। তিনি আরও বলেন, কোস্টগার্ডের সদস্যরা তার স্বামীসহ হ্যান্ডকাফ দিতে বলে চলে যায়। অপরদিকে, ওই ট্রলারের জেলে ইয়াছিন মিয়া দাবি করেন, পিছমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় নদীতে লাফিয়ে পড়ার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা প্রাণ নিয়ে শঙ্কিত।
কোস্টগার্ড ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার কাওছার সাংবাদিকদের জানান, অফিসিয়াল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তিনি বক্তব্য দিতে পারবেন। এদিকে, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, কোস্টগার্ডের অভিযানে মাছ, ট্রলার ও দুই জেলেকে আটক করা হয়েছে। মাসুদ খলিফার নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং আটক ট্রলার ও জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত আটক ও পরিস্থিতির উন্নয়ন
এই ঘটনা শোনার পর ট্রলার মালিক মো. লিটন নতুন বাজার বোর্ডপুলে এলে তাকেও কোস্টগার্ড আটক করে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতারা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিখোঁজ জেলের দ্রুত সন্ধান ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। পুরো ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
