মব কালচার দমনে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন আইজিপি
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির রাজধানীর ক্রমবর্ধমান মব কালচার বা গণপিটুনির মতো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশের দৃঢ় অবস্থান ও কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সশরীরে পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
আইনের কাঠামোয় কঠোর ব্যবস্থা
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্পষ্ট ভাষায় জানান, 'মব কালচার' বা গণপিটুনির মতো কোনো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই সমস্যা সমাধানে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং অপরাধী চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের ভেতরে থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করতে পুলিশ পিছুপা হবে না।
তিনি উল্লেখ করেন, মব কালচার সমাধান করা পুরোপুরি সম্ভব, তবে এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাজের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায় না, বরং তারা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে মব থেকে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।
তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান
আইজিপি তরুণ প্রজন্ম ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে কারো যেকোনো অভিযোগ থাকতে পারে, তবে তা অবশ্যই আইনের কাঠামো এবং আলোচনার টেবিলের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন:
- আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হলে দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আসবে না
- উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে
- একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা কেবল পুলিশের একার দায়িত্ব নয়
- এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল
বিশেষ করে শহর অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে নাগরিকদের আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ঈদুল ফিতরে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। আইজিপি জানান, ঈদযাত্রায় বা কেনাকাটার সময় সাধারণ মানুষ যাতে ছিনতাইকারীর কবলে না পড়েন এবং ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশেষ নজরদারির ক্ষেত্রগুলো হলো:
- শপিং মল এলাকাগুলো
- ব্যাংকিং এলাকাগুলো
- প্রধান সড়ক ও যানবাহন চলাচলের পথ
কাউকে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে উৎসব উদযাপনের সুযোগ করে দিতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে বলে আইজিপি নিশ্চিত করেন। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের আগে ও পরে কার্যকর থাকবে যাতে নাগরিকরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে উৎসব উপভোগ করতে পারেন।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনকালে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে নিয়মিত মনিটরিং ও মূল্যায়ন করা হবে।
