প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, চার সদস্যের অপহরণ চক্র গ্রেপ্তার
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, চার গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, চার সদস্যের অপহরণ চক্র গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনার পর অপহৃত এক স্কুলছাত্রকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা উঠতি বয়সী তরুণদের মাদক ও নারীর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলত। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

অপহরণের ঘটনা ও উদ্ধার অভিযান

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খন্দকার শামীমের একমাত্র ছেলে আরফান সাঈদকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে খিলগাঁওয়ের চামেলিবাগ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে জিম্মি রাখে এবং মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনায় হতবিহ্বল বাবা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জরুরি নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা পাওয়ার পরই রমনা বিভাগের পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডিসি মাসুদ আলম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা কিশোরকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও চক্রের কার্যক্রম

গ্রেপ্তারকৃত চার সদস্য হলেন: তানভীর আহমেদ ওরফে ফাহিম (২৩), ইশরাক ইয়ামিন লিখন (২০), হাসান আল বান্না ওরফে হাসলাম (২১) এবং মোস্তাফিজ রহমান পুঞ্জ (২২)। পুলিশের দাবি, এটি ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র, যারা নিয়মিতভাবে তরুণদের লক্ষ্যবস্তু বানাত।

ডিসি মাসুদ আলম জানান, এই চক্রের সদস্যরা উঠতি বয়সী তরুণদের মাদক ও নারীর প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে অপহরণ করত। পরে তাদের নির্যাতন করে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করত। গ্রেপ্তারকৃতদের মোবাইল ফোনে নির্যাতনের একাধিক ভিডিও পাওয়া গেছে, যা চক্রের অপরাধমূলক কার্যক্রমের স্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।

অভিযান অব্যাহত ও আইনানুগ ব্যবস্থা

ঘটনাস্থলে থাকা আরও একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় রমনা থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়, এই চক্রের বিরুদ্ধে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধ করা সম্ভব হয়।

ডিসি মাসুদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত নির্দেশনা এবং পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টা এই উদ্ধার অভিযানকে সফল করেছে। তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।