রংপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার: পল্লী বিদ্যুতের কর্মী মঞ্জুরুল হোসেন হত্যার শিকার
রংপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার

রংপুরে নিখোঁজের তিনদিন পর মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঝাকুয়াপাড়া মাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি ফাঁকা জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মঞ্জুরুল হোসেন (৪৫), যিনি কুর্শা ইউনিয়নের পশ্চিম অনন্তপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে হিসেবে পরিচিত।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ও অনুসন্ধান

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, মঞ্জুরুল হোসেন গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। সোমবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বুধবার স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় একটি তামাক ক্ষেতে মানুষের রক্তের দাগ ও একজোড়া জুতা পাওয়া গেছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত সেখানে পৌঁছে মঞ্জুরুল হোসেনের জুতা শনাক্ত করেন এবং অবিলম্বে পুলিশকে খবর দেন। এরপর থেকেই মরদেহ খোঁজার কাজ ত্বরান্বিত হয়।

মরদেহ উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্ত

বৃহস্পতিবার সকালে খুঁজোখুঁজির এক পর্যায়ে পুলিশ ঝাকুয়াপাড়া মাজার সংলগ্ন ফাঁকা জমিতে মাটিচাপা অবস্থায় মঞ্জুরুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে। তারাগঞ্জ থানার ওসি রুহুল আমিন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।"

মঞ্জুরুল হোসেন পেশায় পল্লী বিদ্যুতের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ছিলেন এবং তিনি তিন সন্তানের জনক হিসেবে পরিচিত। তার মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এখন হত্যার কারণ ও আসামিদের সন্ধানে তদন্ত জোরদার করেছে। স্থানীয়রা এই মর্মান্তিক ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।