কুষ্টিয়া ও লালমনিরহাটে একই দিনে দুটি মরদেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য
একই দিনে কুষ্টিয়া ও লালমনিরহাট জেলার দুটি পৃথক স্থান থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঘটনাগুলো স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কুষ্টিয়ায় ডুবে যাওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের একটি খালের পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর আলী হোসেন নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ধুবইল ইউনিয়নের কাদেরপুর এলাকা থেকে ডুবুরি দল শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
আলী হোসেন কাদেরপুর গ্রামের রহমত আলী কহনের ছেলে ছিলেন। মিরপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার নাসিম রেজা নিলু জানান, শিশুটি মঙ্গলবার দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল। খবর পাওয়ার পর খুলনা থেকে একটি বিশেষ ডুবুরি দল রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং বুধবার ভোর থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে জিকে সেচ প্রকল্পের খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুততার সাথে কাজ করে এই উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে।
লালমনিরহাটে ভুট্টা ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ
অন্যদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের জয়হরি গ্রামের হাজির মোড় এলাকায় একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে বুধবার সকালে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পাওয়ার পর লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি আব্দুল মতিন জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্তের জন্য তদন্ত চলছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আব্দুল মতিন আরও উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এটি হত্যাকাণ্ড নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু—তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। পুলিশ এই ঘটনায় গভীর তদন্ত চালাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
উভয় ঘটনায় তদন্ত চলমান
কুষ্টিয়া ও লালমনিরহাটের এই দুটি ঘটনা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ উদ্ধারকাজে সহায়ক হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনাগুলোতে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাগুলোর পূর্ণ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে এবং জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে।
