নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ৪ খুন, পুলিশ ৬ জন আটক
নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে ৪ খুন, ৬ আটক

নড়াইলে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে চারজনের নৃশংস হত্যা, ছয়জন আটক

নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতার জেরে বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাব ছয়জনকে আটক করেছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

নিহত ও আটককৃতদের পরিচয়

নিহতরা হলেন বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), ফেরদাউস হোসেন (৪০) এবং প্রতিপক্ষের ওসিকুর ফকির (৩৬)। আটককৃতরা হলেন একই এলাকার তুফান মোল্যা (৩০), লাজুক ওরফে সূর্য সিকদার (৩২), সবুর মোল্যা (৩৬), জসিম মোল্যা (৩০), হালিম ফকির (৬০) ও রনি সিকদার (৩৩)।

দীর্ঘদিনের বিরোধের পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার পক্ষের রহমত হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সাবেক চেয়ারম্যানের উজ্জ্বলের অনুসারী খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। নিহতরা মূলত তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ১০ বছর আগে গ্রাম্য সংঘর্ষের জেরে তারা বড়কুলা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু স্থান পরিবর্তনের পরও বিরোধ থামেনি; দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত অব্যাহত ছিল।

হামলার বিস্তারিত বিবরণ

ঘটনার দিন ভোররাতে সাহরি খেয়ে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ ও ফেরদাউস হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত প্রতিপক্ষের ওসিকুর ফকির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হামলার পর অন্তত সাত থেকে আটটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

পুলিশের পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

নড়াইল সদর থানার ওসি ওলি মিয়া জানান, চারজনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার প্রস্তুতিও চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধ করা যায়।