বান্দরবানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জেএসএস-মূলের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত, বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-মূল) সশস্ত্র সংগঠনের গোলাগুলির ঘটনায় হ্লামংনু মার্মা নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের মুরুং বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। অভিযান শেষে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি) সহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অভিযানের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সদস্যরা গাড়ি আটকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। সেনাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সদস্যরা পালানোর চেষ্টাকালে গুলি ছুড়লে, সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালিয়ে তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, যা এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
নিহত ব্যক্তির উদ্ধার ও চিকিৎসা
গোলাগুলি শেষে সেনা সদস্যরা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হ্লামংনু মার্মাকে গুলিবিদ্ধ উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে জেএসএসের গোলাগুলির ঘটনায় একজন আহত হয়েছিলেন, যিনি পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান, যা ঘটনার তীব্রতা নির্দেশ করে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও আইএসপিআরের প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি গুলি, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যামোনিশন, দুটি ম্যাগাজিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এদিকে আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর এবং সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছে। তবে সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থান ও আইএসপিআরের প্রতিশ্রুতির ফলে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমিয়ে আনা এবং পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
