প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিগত সতেরো বছরে বিভিন্ন বাহিনীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো সংস্কার করে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে।
মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে দুপুরে এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। উপদেষ্টা শামসুল ইসলামকে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। এরপর সচিব মহোদয় তাকে মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম, বর্তমান সময়ের অর্জনসমূহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন, যা সরকারের প্রতিরক্ষা খাতের উন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটায়।
জনমুখী বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, 'সরকার এমন একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে যা হবে সম্পূর্ণরূপে জনমুখী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সংশ্লিষ্ট।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাহিনীর হারানো গৌরব ও মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে যেসব পদক্ষেপ প্রয়োজন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইতিমধ্যেই বাহিনী প্রধানদের সেই নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
শামসুল ইসলাম আশ্বস্ত করেন, 'সবাই সম্মিলিতভাবে এই সংস্কারমূলক কাজ শুরু করেছে এবং এর ইতিবাচক ফলাফল ও পরিবর্তন খুব শীঘ্রই দৃশ্যমান হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।' তার এই বক্তব্য দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও শক্তিশালীকরণে সরকারের অটুট প্রতিশ্রুতিরই স্বাক্ষর বহন করে।
ফ্যাসিস্ট আমলের ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনর্গঠন
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যে অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও দুর্বল হয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন ও সংস্কারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও অতন্দ্র প্রহরী বাহিনী গড়ে তোলা হবে।' এই বাহিনী সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আপোসহীন ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শামসুল ইসলাম আরও যোগ করেন, 'অতীতেও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের সেবায় নিবেদিতভাবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও যেন সেই গৌরবময় ধারা অব্যাহত থাকে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, সেই মহান লক্ষ্যেই বর্তমান সংস্কার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।' তার এই ঘোষণা জাতিকে একটি আধুনিক ও কার্যকর প্রতিরক্ষা কাঠামোর আশ্বাস প্রদান করে।
