পুলিশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে পুলিশ বাহিনীর ঐতিহ্যবাহী খাকি পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে দাবি করে যে, দীর্ঘদিনের এই পোশাক পরিবর্তনের আগে আরও গভীর গবেষণা ও ব্যাপক জনমত যাচাই অত্যন্ত জরুরি।
বিবৃতিতে উল্লেখিত প্রধান উদ্বেগসমূহ
বিবৃতিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, ২০০৩-২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার গঠিত একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ পুলিশের খাকি পোশাক চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং, দেশের আবহাওয়া, দিন-রাতের ডিউটিতে সহজে চিহ্নিত হওয়ার সুবিধা এবং অন্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য এড়ানোসহ নানা বাস্তব বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছিল।
কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে নির্বাচিত নতুন পোশাকে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের মতে, নতুন ইউনিফর্মের সঙ্গে অন্য কয়েকটি সংস্থার পোশাকের সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা কার্যকরী তৎপরতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক বিবেচনা
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রায় সব সদস্য ঐতিহ্যবাহী খাকি পোশাক পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় তাদের পেশাদারিত্ব দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। সংগঠনটি জোর দিয়ে বলে, এই পোশাক শুধু একটি ইউনিফর্ম নয়, বরং এটি বাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের জীবন্ত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়া পোশাক পরিবর্তন একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান কঠিন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন ইউনিফর্ম তৈরির চেয়ে সেই অর্থ বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন সরবরাহ, লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও মনোবল উন্নয়নে ব্যয় করা অধিক যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ হবে বলে সংগঠনটি মনে করে।
সরকারের প্রতি অনুরোধ
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, পোশাকের রঙ বা নকশার চেয়ে পুলিশ সদস্যদের মনোভাব, মনোবল ও পেশাদারিত্বের উন্নয়নই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যদের আবেগ ও বাস্তবতার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। একই সঙ্গে আরও গবেষণা ও জনমত যাচাইয়ের ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি পুনর্ব্যক্ত করেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবে, পোশাক যাই হোক না কেন।
