প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শামসুল ইসলামের প্রতিশ্রুতি: জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গঠনে কাজ চলছে
জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গঠনে কাজ চলছে: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার ঘোষণা: জনগণের চাহিদার সশস্ত্র বাহিনী গঠনে অগ্রগতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছেন। এই সফরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেন, যা দেশের প্রতিরক্ষা খাতের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মাইলফলক হিসেবে কাজ করতে পারে।

পরিদর্শন ও বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ

দুপুরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর উপদেষ্টা শামসুল ইসলামকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষাসচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। এরপর একটি বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড, উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। এই সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন, যা এই পরিদর্শনের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গঠনের প্রতিশ্রুতি

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শামসুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমাদের ভবিষ্যৎ সশস্ত্র বাহিনী হবে সম্পূর্ণরূপে জনমুখী বাহিনী। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সংশ্লিষ্টতা রেখেই এই বাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বাহিনীপ্রধানদেরকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার যেভাবে বিভিন্ন বাহিনীকে ধ্বংস করেছে, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে বাংলাদেশের মানুষের চাহিদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা হবে।' এই বাহিনী সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান অগ্রগতি

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জানান, ইতিপূর্বে সশস্ত্র বাহিনী তাদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও একই ধারা বজায় রাখার জন্য কাজ চলছে। তিনি বলেন, 'ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং আমরা সেই অনুযায়ী সম্মিলিতভাবে কাজ শুরু করেছি। শিগগিরই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।' এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও জনবান্ধব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এই পরিদর্শন ও ঘোষণা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে।