বান্দরবানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলি: এক ব্যক্তির মৃত্যু, অস্ত্র উদ্ধার
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিবরণ ও সময়
আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে বান্দরবান–রুমা সড়কের মুরুং বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের অন্তর্গত হলেও রুমা উপজেলা সদরের কাছাকাছি অবস্থিত। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোলাগুলির পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে জলপাই রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় পায়।
আহত ব্যক্তির কাছ থেকে ১টি এসএমজি, ২টি ম্যাগাজিন, ১৪৩টি গুলি ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। তাঁকে দ্রুত বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা দিলীপ চৌধুরী বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে এবং মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া
নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, বিকেলে সড়কে গাড়ি থামিয়ে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি চাঁদাবাজি করছিল। এ সময় বান্দরবান থেকে রুমার দিকে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল সেখানে পৌঁছালে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রথমে গুলি চালায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলি চালালে একজন আহত হন।
রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম সাবের আহমেদ বলেন, একটি পাহাড়ি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনা বান্দরবান অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি উদ্বেগজনক দিক তুলে ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এলাকায় মাঝেমধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা জনজীবনে ভীতির সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা বাহিনী বলেছে, তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে।
