নড়াইলে দীর্ঘদিনের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে পাল্টাপাল্টি হামলায় বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত
নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের দুই সাবেক চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে পাল্টাপাল্টি হামলায় বাবা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোররাতে সংঘটিত এই ঘটনায় উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান, এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনী এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার ভোররাতে সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খায়রুজ্জামান মোল্যা পক্ষের লোকজন প্রথমে উজ্জ্বল শেখ পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন খলিল শেখ, তাঁর ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ এবং প্রতিবেশী ফেরদৌস শেখ। পরে পাল্টা হামলায় খায়রুজ্জামান পক্ষের ওসিকুর ফকির আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই দ্বন্দ্ব কয়েক দশকের পুরোনো এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। দুই পক্ষ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে একে-অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যদিও দুই সাবেক চেয়ারম্যানের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের সঙ্গেই তাদের যোগাযোগ রয়েছে।
নিহতদের পরিবারের করুণ দৃশ্য
ঘটনাস্থলে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ উদ্ধারে গেলে পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের প্রতি চড়াও হন স্বজনরা। তারা দীর্ঘ সময় লাশ আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের প্রচেষ্টায় দুপুরের দিকে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত খলিল শেখের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কোনো কথা না বলেই ঘরে ঢুকে মহিলাদের সরিয়ে দেয় এবং পুরুষদের কুপিয়ে হত্যা করে।
পুলিশের তৎপরতা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ, যদিও তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, ঘটনায় জড়িত সবাইকে ধরতে অভিযান চলছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, খায়রুজ্জামান ও তাঁর পক্ষের লোকজন এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন, এবং নিহত ওসিকুরের মরদেহ হাসপাতালে থাকলেও সেখানে স্বজনদের কেউ নেই।
খায়রুজ্জামানের বাড়িতে থাকা নারী সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা মাসুম মুন্সী বলেন, ‘আজ যা হলো, তা কল্পনা করা যায় না। আমরা চাই, এমন দিন আর যেন না দেখতে হয়।’ বর্তমানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে, তবে উত্তাপ এখনো কমেনি।
