গোপালগঞ্জে আধিপত্য সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু, ১০ জন আহত
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ১০

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু, আহত অন্তত ১০ জন

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারীও রয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কমলাপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।

সংঘর্ষের বিস্তারিত ঘটনা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কমলাপুর গ্রামের আনোয়ার মুন্সী গ্রুপ ও নুর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রথমে আনোয়ার মুন্সীর পক্ষের লোকজন হাসপাতাল গেটে নুর ইসলামকে আক্রমণ করেন, যা পরবর্তীতে জটিলতা বাড়িয়ে তোলে। এর প্রতিক্রিয়ায় নুর ইসলামের লোকজন আনোয়ার মুন্সীর বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান, ফলে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন, যাদের মুকসুদপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত চার ব্যক্তিকে, যাদের মধ্যে নিলু মুন্সী (৫০), তার স্ত্রী রূপা বেগম (৪০), ভাই মিলন মুন্সী (৫২) ও দুলাল মুন্সী (৪০) রয়েছেন, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা নিলু মুন্সীকে মৃত ঘোষণা করেন, যা এই ঘটনাকে আরও মর্মান্তিক করে তোলে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উভয় গ্রুপই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, যা এই সংঘর্ষে রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করেছে। অপর পক্ষের নুর ইসলাম বর্তমানে মুকসুদপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাটির প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব সদস্যরা অবস্থান করছেন, যা বর্তমানে পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

এই সংঘর্ষ স্থানীয় সম্প্রতি ও শান্তি বিনষ্ট করেছে, এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।