রাজবাড়ীতে তরুণ ব্যবসায়ী হত্যা মামলার প্রধান আসামি রাতুল গ্রেপ্তার
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় প্রকাশ্যে তরুণ ব্যবসায়ী জাহিদ হাসানকে (২৭) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি রাতুলকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকার আশুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব-১০–এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া
গ্রেপ্তারকৃত রাতুল (২৮) রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর মেছোঘাটা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর গতকাল রাতে তাঁকে ফরিদপুর র্যাব ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাঁকে রাজবাড়ী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, রাতুলকে গতকাল গভীর রাতে থানায় আনা হয়েছে এবং আজ রোববার তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন রাজবাড়ী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিনোদপুর মহল্লার মাহতাব ফকিরের ছেলে জাহিদ হাসান ফকির। দেশে ফিরে তিনি বিদেশে আর না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের ব্যবসা শুরু করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুঠোফোনে কল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন জাহিদ। কিছুক্ষণ পর বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে একটি দোকানের সামনে কয়েকজন তরুণ তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন জাহিদকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
মামলা ও তদন্তের অগ্রগতি
এ ঘটনার পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি নিহত জাহিদের বাবা মাহতাব ফকির বাদী হয়ে রাতুলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। খোন্দকার জিয়াউর রহমান আরও জানান, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ তদন্ত দল কাজ করছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জাহিদ হাসান এলাকায় একজন সৎ ও পরিশ্রমী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর হত্যাকাণ্ডে সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
