রমজানে সড়কে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ইফতার
রমজানে ট্রাফিক পুলিশের সড়কে ইফতার

রমজানে সড়কে দায়িত্ব পালনরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ইফতার

পবিত্র রমজান মাসে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব ও ইবাদত দুটোই একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ফাঁকে তারা সড়কে দাঁড়িয়েই ইফতার করছেন। ঢাকার বিজয় সরণি ও সোনারগাঁও ট্রাফিক সিগন্যালে এই দৃশ্য চোখে পড়েছে। রমজানের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ইফতারের আগে সড়কে গাড়ির চাপ কম থাকলেও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা তাদের অবস্থানে ছিলেন।

বিজয় সরণি ও সোনারগাঁও সিগন্যালের চিত্র

বিজয় সরণি সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে তিন সদস্য ইফতারি প্রস্তুত করছিলেন। তারা জানান, সবাই একসঙ্গে ইফতার করবেন। সোনারগাঁও সিগন্যালেও একই দৃশ্য দেখা গেছে, যেখানে পুলিশ সদস্যরা তড়িঘড়ি করে ছোলা-মুড়ি মাখাচ্ছিলেন। প্রতিদিন এভাবেই ইফতার করতে হয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের। গাড়ির চাপ বেশি থাকলে তারা এক হাতে ইফতারি খান এবং অন্য হাতে সংকেত দেন।

ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের অভিজ্ঞতা

সার্জেন্ট জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘পরিবার ছাড়া ইফতার করতে খারাপ লাগে, কিন্তু দায়িত্ব সবার আগে।’ অন্যদিকে, সার্জেন্ট জয়নুল আবেদীন ২৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘ট্রাফিক বক্সে সবাই মিলে ইফতার করি, ভালোই লাগে।’ সহকারী উপপরিদর্শক শামীম মন্ডল যোগ করেন, ‘প্রথম প্রথম খারাপ লাগত, এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।’

ডিএমপির ব্যবস্থা ও ইফতারি সরবরাহ

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দুই পালায় ট্রাফিক সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। বিকেলের পালায় যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ইফতারি সরবরাহ করা হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ইফতারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকে। রাজধানীতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ট্রাফিক সদস্য ও ৫০০ সহায়তাকারীকে ইফতারের আগেই খাবারের প্যাকেট দেওয়া হয়।’

ইফতারির প্যাকেট ও অতিরিক্ত খাবার

পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া ইফতারির প্যাকেটে দুটি খেজুর, দুটি বরই, ছোলা-মুড়ি, বুন্দিয়া, বেগুনি, পিঁয়াজু, আলুর চপ, শসা ও এক বোতল পানি থাকে। পাশাপাশি, ট্রাফিক সদস্যরা নিজেরা টাকা তুলে পছন্দের ইফতারিও কিনেন। বিজয় সরণি সিগন্যালের কাছে কলমিলতা কাঁচাবাজার থেকে তারা অতিরিক্ত খাবার সংগ্রহ করেন।

সড়কে ইফতারের প্রয়োজনীয়তা

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান ব্যাখ্যা করেন, ‘নগরবাসী যাতে নির্বিঘ্নে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারেন, সেজন্য ট্রাফিক সদস্যরা রাস্তায়ই ইফতার করেন। এটি তাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে।’ সোনারগাঁও সিগন্যালে সার্জেন্ট আশিক বলেন, গাড়ির চাপ বেশি থাকলে তারা সড়কেই ইফতার করেন, তবে আজ সবাই মিলে পুলিশ বক্সে ইফতার করবেন।

সার্জেন্ট অমিতের মতো কিছু সদস্য সতর্কতাবশত সড়কে দাঁড়িয়ে ইফতার করেন, যদিও গাড়ির চাপ কম থাকে। এই সমর্পিত দায়িত্ব পালন রমজান মাসে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের প্রতিফলন ঘটায়।