গাজীপুরে নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক
গাজীপুরে নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

গাজীপুরে নিখোঁজ গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক গৃহবধূর নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পেলাইদ কাটাখালী গুদারাঘাট এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা শ্রীপুর থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের পরিচয় ও পারিবারিক পটভূমি

নিহত বৃষ্টি আক্তার (১৮) উপজেলার ৭ নম্বর বরমী ইউনিয়নের বাজার এলাকার ওয়াজ উদ্দিনের মেয়ে এবং শ্রীপুর পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ড ভাংনাহাটি গ্রামের সম্রাটের স্ত্রী। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বৃষ্টি স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন এবং তার স্বামী সম্রাট একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা

গত মঙ্গলবার রাতে সম্রাট কর্মস্থলে যাওয়ার সময় স্ত্রীকে ঘরে রেখে যান। পরদিন সকালে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান ঘরের বাইরে তালা লাগানো। স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে খবর দেন। পরে স্বজনরা এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলেও বৃষ্টির কোনো সন্ধান মেলেনি। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার হদিস না পেয়ে বুধবার শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সম্রাট।

মরদেহ উদ্ধার ও পরিবারের অভিযোগ

নিখোঁজের তিন দিন পর শুক্রবার দুপুরে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা ওয়াজ উদ্দিনের অভিযোগ, "আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গায়ে থাকা স্বর্ণালংকার খোলা ছিল। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, বৃষ্টির শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে স্বামী সম্রাটের খালাতো ভাই শরীফের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল। ঘটনার পর থেকেই শরীফ পলাতক রয়েছেন। স্বজনদের সন্দেহ, এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

পুলিশের পদক্ষেপ ও তদন্ত

ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে নিহতের স্বামী সম্রাটকে আটক করেছে পুলিশ। শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ নাছির আহমেদ বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।"

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে স্বামী সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়রা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।