টাঙ্গাইলে নাতির হাতে নানী হত্যা: টাকা ধার না পেয়ে হাতুড়ি-দায় নির্মমতা
টাঙ্গাইলে নাতির হাতে নানী হত্যা: টাকা ধার না পেয়ে নির্মমতা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে নাতির হাতে নানীর নির্মম হত্যাকাণ্ড

টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাতি নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি তার নানী বেদেনা কোচকে টাকা ধার না পেয়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।

ঘটনার বিবরণ ও গ্রেপ্তার

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে নয়ন কোচ তার নানী বেদেনা কোচের কাছে পাঁচ হাজার টাকা ধার চান। টাকা না দেওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নয়ন কোচ রাতেই হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাত আনুমানিক ১১টার দিকে, নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ কালিদাস বাজারে গেলে সুযোগে নয়ন কোচ নানীর বাড়িতে প্রবেশ করেন। প্রথমে তিনি হাতুড়ি দিয়ে বেদেনা কোচের মাথায় আঘাত করেন, যাতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দা দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর বিছানার ওপর রক্তাক্ত দা ও হাতুড়ি রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখে পরেশ চন্দ্র কোচ তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে বুধবার সকাল ৮টার দিকে সখীপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নয়ন কোচকে গ্রেপ্তার করে।

মামলা ও জিজ্ঞাসাবাদ

বুধবার সকাল ১১টার দিকে নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে নাতি নয়ন কোচকে একমাত্র আসামি করে সখীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন কোচ হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, নানী তার সঙ্গে প্রায়ই খারাপ আচরণ করতেন।

সখীপুর থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলা দায়েরের আগেই আসামিকে আটক করা সম্ভব হয়েছে, পরে তাকে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আসামির পরিচয় ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

নয়ন কোচ উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং স্থানীয় শ্যামল কোচের ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়রা গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এলাকাবাসীর মতে, পারিবারিক কলহ ও আর্থিক চাপ এই ঘটনার পেছনে কারণ হতে পারে।

পুলিশ এখন আরও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনা সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক সহিংসতার ভয়াবহ দিকটি উন্মোচিত করেছে, যা সমাজে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।