পটুয়াখালীর বাউফলে পুকুরে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় একটি পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি মো. শাকিল মৃধা (২২) নামে পরিচিত, যিনি আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুস সোবাহান মৃধার ছেলে হিসেবে পরিচিত।
ঘটনার বিবরণ
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবন সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় দফাদার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রোববার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর রাতে শাকিল আর ফেরেননি। সোমবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশের পুকুরে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও শীতের পোশাক পরিহিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে। স্বজনরা এসে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করেন। শাকিল মৃধা ঢাকা–বাউফল–দশমিনা রুটে চলাচলকারী পরিবহনের আদাবাড়িয়া কাউন্টারের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ভাইয়ের অভিযোগ ও পুলিশের প্রতিক্রিয়া
নিহতের বড় ভাই অ্যাডভোকেট লিটন মৃধা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।” তিনি এই ঘটনায় দ্রুত বিচার দাবি করেছেন এবং সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে এটি কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা প্রতিশোধমূলক হামলার ফল হতে পারে।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে হত্যার কারণ ও সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই এই ধরনের অপরাধমূলক ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তারা নিহতের পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছেন।
এই ঘটনা পটুয়াখালী জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত গুরুতর অপরাধের একটি উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা এখন সকলের নজরে রয়েছে।
