বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী রোববার শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করেছে। ১৯৬৯ সালের এই দিনে, তৎকালীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বাঙালি সদস্য সার্জেন্ট জহুরুল হককে ঢাকা সেনানিবাসে আটক রেখে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে।

এক স্বাধীনচেতা দেশপ্রেমিক সৈনিকের জীবন ও আত্মত্যাগ

সার্জেন্ট জহুরুল হক ছিলেন একজন মুক্তমনা ও দেশপ্রেমিক সৈনিক। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক দায়েরকৃত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রাখা হয়। বিমান বাহিনী আইনের অধীনে পরবর্তীতে তাকে ঢাকা সেনানিবাসে বন্দী করা হয়।

১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। কিন্তু একই সময়ে, ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা সেনানিবাসে আটক থাকা অবস্থায় সার্জেন্ট জহুরুল হক পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে নিহত হন।

দেশের স্বাধীনতায় অবদানের স্বীকৃতি

দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র হলের নামকরণ করা হয় "সার্জেন্ট জহুরুল হক হল"। এছাড়াও, ১৯৮২ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে "স্বাধীনতা পদক" প্রদান করে।

মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান

তার মৃত্যুবার্ষিকীতে, চট্টগ্রামের বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফজরের নামাজের পর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই মাহফিলে শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হকের এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন, ওএসপি, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, সিনিয়র অফিসার, এয়ারম্যান এবং ঘাঁটির অন্যান্য সদস্যরা মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।