ভালোবাসা দিবসে গাজীপুরের ওসির কথোপকথন ভাইরাল, নগরজুড়ে কৌতূহল
ভালোবাসা দিবসে গাজীপুরের ওসির কথোপকথন ভাইরাল

ভালোবাসা দিবসে গাজীপুরের ওসির কথোপকথন ভাইরাল, নগরজুড়ে কৌতূহল

গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা খালিদ হোসেনের সঙ্গে এক নারীর মোবাইল ফোনের কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ভালোবাসা দিবসে দুপুরে তাদের কলের একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যা নগরজুড়ে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করে।

ভাইরাল কথোপকথনের বিবরণ

অডিও রেকর্ডটিতে ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন এবং নারীর মধ্যে ভালোবাসা নিয়ে একটি হালকা মজার কথোপকথন শোনা যায়। কথোপকথনের কিছু অংশ নিম্নরূপ:

  • ওসি: মায়া কি কাটছে?
  • নারী: স্যার, মায়া কি এত সহজে কাটা যায়?
  • ওসি: এ মায়া, কোন ধরনের মায়া?
  • নারী: ভালোবাসা তো এমনই অদ্ভুত হয় না? বিশ্বাস করছো না। বিকাশে টাকা পাঠাও।
  • ওসি: ও তাই নাকি। দেখি ভালোবাসা কতদূর থাকে? কত ভালোবাসা আছে? দেখি না আমরা, অনেক ভালোবাসা আছে তোমার কাছে, তাই না? ওখান থেকে আমাকে এক কেজি দিও ভালোবাসা। নাকি সব দিয়ে দিছো, অ্যা?
  • নারী: জানি না।
  • ওসি: জানো না, আচ্ছা ঠিক আছে। দেখি আছে কিনা আর ভালোবাসা।

ওসির ব্যাখ্যা

এ ব্যাপারে ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, একটি অসহায় নারীর সঙ্গে এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক থাকায় মেয়েটি প্রতারিত হওয়ায় থানায় মামলা দিতে এসেছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি সত্য মিথ্যা যাচাই করতে অনেকের সামনে মেয়েটির সঙ্গে কথাবার্তা হয়। পাশে থেকে জনৈক সাংবাদিক কথাবার্তা রেকর্ড করে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে, যা ভাইরাল হয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, "মেয়েটির সঙ্গে দুষ্টুমি করে এভাবে কথা বলা আমার ঠিক হয়নি।" এই ঘটনায় তিনি কিছুটা অনুতপ্ত প্রকাশ করেছেন, যদিও এটি একটি আনুষ্ঠানিক যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ ছিল বলে দাবি করেন।

নগরজুড়ে প্রতিক্রিয়া

ভালোবাসা দিবসের এই ঘটনাটি গাজীপুরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে কথোপকথনটি শেয়ার করছেন এবং বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। কিছু মানুষ এটিকে হালকা মজার হিসেবে নিলেও, অন্যরা পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই ভাইরাল কথোপকথনটি পুলিশি দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত আচরণের মধ্যে সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূচনা করেছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে, এটি পেশাদারিত্ব বজায় রাখার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে।