স্বৈরাচার বিরোধী দিবসে শ্রদ্ধা: ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ
স্বৈরাচার বিরোধী দিবসে শ্রদ্ধা: ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ

স্বৈরাচার বিরোধী দিবসের ৪৬তম বার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক স্মরণ

স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র পরিষদ (১৯৮২–১৯৯০) সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ–বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ৪৬তম বার্ষিকী পালন করেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা অধিকার চত্বরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। আশির দশকের ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

নেতৃত্ব ও উপস্থিতি: ছাত্র আন্দোলনের প্রজন্মের মিলনমেলা

সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সংগঠক ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ফয়জুল হাকিমের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতা নাসিরুদ্দিন এলান, কাইয়ুম হোসেন, কামরুজ্জামান ফিরোজ, সাজ্জাদ সুমন, ইশরাত জাহানসহ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, সাধারণ সম্পাদক সৌরভ রায়, মো. বুরহান, অনন্ত সরকারসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এই সমাবেশে পুরানো ও নতুন প্রজন্মের ছাত্র নেতাদের মিলন ঘটে, যা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়।

ফয়জুল হাকিমের বক্তব্য: ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ

ফয়জুল হাকিম তার বক্তব্যে বলেন, “১৯৮৩ সালের মধ্য ফেব্রুয়ারির ছাত্র আন্দোলন সামরিক শাসন অবসান ও শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত, যা আজও ছাত্র আন্দোলনের অনুপ্রেরণা।” তিনি অভিযোগ করেন যে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরও দেশে গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ছাড়া গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকার পতন হলেও দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হয়নি এবং জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা যায়নি।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির উপর তীব্র সমালোচনা করেন, যা ছাত্র আন্দোলনের চলমান সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

অনুষ্ঠানের তাৎপর্য: শিক্ষা অধিকার ও গণতন্ত্রের দাবি

এই অনুষ্ঠানটি কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়, বরং শিক্ষা অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য ছাত্রদের দাবির একটি শক্তিশালী প্রকাশ। জাতীয় শিক্ষা অধিকার চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচি শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক লড়াইয়ের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখে এবং ভবিষ্যতের সংগ্রামের জন্য অনুপ্রেরণা যোগায়।

  • স্বৈরাচার বিরোধী ছাত্র পরিষদ ৪৬ বছর ধরে এই ঐতিহ্য বজায় রেখেছে।
  • পুরানো ও নতুন প্রজন্মের ছাত্র নেতাদের উপস্থিতি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
  • ফয়জুল হাকিমের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক শিক্ষা ও ফ্যাসিবাদী শাসনের সমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

সামগ্রিকভাবে, এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত, যা স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামের মূল্যবোধকে আজও প্রাসঙ্গিক করে তোলে।