সাতক্ষীরায় নির্বাচনি দায়িত্বে পুলিশ কর্মকর্তার 'গোপন বৈঠক', তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার
সাতক্ষীরায় পুলিশ কর্মকর্তার 'গোপন বৈঠক', প্রত্যাহার

সাতক্ষীরায় নির্বাচনি দায়িত্বে পুলিশ কর্মকর্তার 'গোপন বৈঠক', তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক নেতার কার্যালয়ে 'গোপন বৈঠক' করার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম আকিদুল ইসলাম, যিনি পুলিশের এএসআই হিসেবে সাতক্ষীরা কোর্টে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার বিবরণ

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নির্বাচনি মালামালসহ দায়িত্ব পালনকালে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এএসআই আকিদুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর বিকালে তিনি কেন্দ্র ছেড়ে গাজীরহাট বাজারে নওয়াপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাজিব হোসেন রাজুর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই কার্যালয়ের থাই গ্লাসের দরজা বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ তিনি বিএনপি নেতাদের সঙ্গে 'গোপন শলাপরামর্শ' করেন। নির্বাচনি ডিউটিতে থাকাকালে একজন পুলিশ সদস্যের এভাবে রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ

স্থানীয়রা বিষয়টি দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ওসিকে জানানোর পর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এএসআই আকিদুল ইসলামকে নির্বাচনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রত্যাহার করা হয়।

দেবহাটা থানার ওসি জাকির হোসেন জানান, 'নির্বাচন চলাকালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া মাত্রই এএসআই আকিদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার পরিবর্তে অন্য একজনকে ওই কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

দেবহাটার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মিলন সাহা বলেন, 'বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক এবং আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর।'

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।