অন্তর্বর্তী সরকারের পদোন্নতি: সশস্ত্র বাহিনীর ১৪১ কর্মকর্তা ভূতাপেক্ষ সুবিধা পেলেন
সশস্ত্র বাহিনীর ১৪১ কর্মকর্তার পদোন্নতি

সশস্ত্র বাহিনীর ১৪১ কর্মকর্তার জন্য ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ঘোষণা

অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ১৪১ জন কর্মকর্তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করেছে। এই পদোন্নতির মাধ্যমে কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।

কর্মকর্তাদের বিভাগভিত্তিক বণ্টন

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১১০ জন, নৌবাহিনীর ১৯ জন এবং বিমানবাহিনীর ১২ জন সদস্য রয়েছেন। তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত আছেন, যাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর দুজন লেফটেন্যান্ট জেনারেল, সাতজন মেজর জেনারেল ও বিশজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রয়েছেন।

চার কর্মকর্তার চাকরিতে পুনর্বহাল

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে বিএমএ ৭৫তম লং কোর্সের চারজন লেফটেন্যান্টকে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই চার কর্মকর্তা হলেন লেফটেন্যান্ট শাফায়েত আহমেদ, লেফটেন্যান্ট এ এইচ এম ইকরামউজ্জামান, লেফটেন্যান্ট তৌকির মাহমুদ তুষার এবং লেফটেন্যান্ট আবদুল্লাহ ওমর নাসিফ।

উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরখাস্ত, চাকরিচ্যুত, বাধ্যতামূলক অবসর, অকালীন অবসর ও স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত পদ্ধতিগত বৈষম্য ও পেশাগত ক্ষতির অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত বা বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনা করে।

কমিটির প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য

কমিটির সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বৈষম্য ও অন্যায়ের শিকার হওয়া কর্মকর্তাদের মান-মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বহালের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুসারে তালিকা ধরে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

তবে কমিটির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে আবেদন করা আরও ২০১ জন কর্মকর্তার নথি না পাওয়ায় তাদের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এই কর্মকর্তাদের বিষয়ে ভবিষ্যতে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তারা

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মকর্তার মধ্যে আছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমিনুল করিম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সিনা ইবনে জামালি, মেজর জেনারেল মুহাম্মাদ ইশতিয়াক, মেজর জেনারেল সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমি এবং মেজর জেনারেল কামরুজ্জামান।

নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কমোডর এম নাসির ও কমোডর সৈয়দ মকছুমুল হাকিম এবং বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে এয়ার ভাইস মার্শাল দেলোয়ার হোসেন, এয়ার কমোডর সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন, এয়ার কমোডর কাজী মাজহারুল করিম, এয়ার কমোডর খালিদ হোসেন ও এয়ার কমোডর শাহারুল হুদা এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

সরকারি ঘোষণার বিস্তারিত

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী পদোন্নতিপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তা অবসরকালীন সুবিধা, প্লটসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা পাবেন। যেসব কর্মকর্তাকে চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না, তাদের নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ অবসর দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটিতে প্রতিরক্ষাসচিব মো. আশরাফ উদ্দিনের স্বাক্ষর রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত সামরিক বাহিনীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও পেশাগত মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।