নির্বাচনী ব্যস্ততায় অবৈধ পণ্য আনার চেষ্টা, হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি
নির্বাচনী ব্যস্ততায় অবৈধ পণ্য আনার চেষ্টা, বিমানবন্দরে নজরদারি

নির্বাচনী ব্যস্ততায় অবৈধ পণ্য আনার চেষ্টা, হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারি

নির্বাচনি কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততাকে কাজে লাগিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্য আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এমনকি নাশকতার উদ্দেশ্যে অস্ত্র ও বিস্ফোরকও আসতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরটিকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার জব্দকৃত পণ্যের মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা

এদিকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) একদিনেই ২২ ও ২৪ ক্যারেটের ৫০ কেজি রুপা, বিপুল পরিমাণ আমদানি-নিষিদ্ধ সিগারেট ও ক্রিম জব্দ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এই অভিযানগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করছে যে চোরাকারবারীরা বর্তমান পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

নির্বাচনকালীন ব্যস্ততাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের নির্বাচনকালীন ব্যস্ততা বেড়েছে। এ কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢিলেঢালা থাকবে—এমন ধারণায় চোরাকারবারীরা অবৈধ পণ্য আনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে স্বর্ণ, রুপা, সিগারেট ও নিষিদ্ধ ক্রিম রয়েছে এ তালিকায়। গত কিছুদিন গোয়েন্দা সংস্থা ও কাস্টমসের বিশেষ নজরদারির কারণে এসব কার্যক্রম অনেকটাই কমে এসেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও প্রবণতা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বুধবারের দুটি বড় অভিযানের বিস্তারিত

বুধবার কাতার থেকে আসা এক বাংলাদেশি যাত্রীর কাছ থেকে ২২ ও ২৪ ক্যারেটের ৫০ কেজি রুপা জব্দ করা হয়। অন্য এক অভিযানে দুবাই থেকে আসা আরেক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও আমদানি-নিষিদ্ধ ক্রিম জব্দ করা হয়। কর্মকর্তারা আরও জানান, অবৈধ পণ্যের পাশাপাশি অস্ত্র ও বিস্ফোরক দেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা হতে পারে—এমন তথ্যও তাদের কাছে রয়েছে। এ কারণে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে

তাদের ভাষ্য, কর্মকর্তারা ব্যস্ত থাকলেও নজরদারিতে কোনও ঘাটতি নেই; বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সব ফ্লাইটে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দরে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এই পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করছে যে নির্বাচনী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততা সত্ত্বেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চলমান রয়েছে।