কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিজিবির অভিযানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেশি ও বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
বিজিবি অধিনায়ক জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের নির্বাচনি দায়িত্বপূর্ণ দৌলতপুর উপজেলায় স্থাপিত বিজিবি বেইজ ক্যাম্প থেকে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সীমান্ত শূন্য লাইন থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরত্বে পোল্ট্রিমোড় চর নামক স্থান দিয়ে অস্ত্র পাচার হতে পারে এমন তথ্য পাওয়া যায়।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিজিবির টহল দল সেখানে বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড গুলি, ১টি দেশি শুটার গান এবং ২টি বড় রামদা, ৫টি ছোট রামদা, ৫টি হাসুয়া, ১টি চাপাতি ও ১টি ছুরিসহ মোট ১৪টি দেশি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ড্রোনের এআই প্রযুক্তির ব্যবহার
অভিযান চলাকালে বিজিবির ড্রোন ক্যামেরার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনাস্থল সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়। এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অভিযানের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা ও অতীত সাফল্য
লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি আরও জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বেসামরিক প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছে। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
যেকোনও ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) ১৩ জন আসামিসহ ৮টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশি শুটার গান, ১২টি ম্যাগাজিন, ১৬ রাউন্ড গুলি এবং ১৪টি দেশি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
এই অভিযানটি নির্বাচনী পরিবেশের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিজিবির অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এই সাফল্য প্রশংসা ও স্বস্তির সৃষ্টি করেছে।
