নির্বাচনী দায়িত্বে পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২টি নিষেধাজ্ঞা জারি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে ২২ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রার্থী ও ভোটার সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনকালে প্রার্থী, প্রার্থীর এজেন্ট বা সমর্থকদের কাছ থেকে খাবার, উপঢৌকন বা অন্য যেকোনও সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়াও, প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা, আলাপচারিতা বা ঘনিষ্ঠ হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ভোটার বা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে অযথা হস্তক্ষেপ করা যাবে না এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা নিষেধ।
নিরপেক্ষতা ও আচরণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ
পুলিশ সদস্যদের জন্য আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটারকে কোনও প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাবিত করা যাবে না। কোনও ধরনের রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা সমর্থকদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিপেটা করা যাবে না।
এছাড়াও, কোনও রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর মিছিলে অংশগ্রহণ বা কার্যালয়ে উপস্থিত থাকা যাবে না। রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পছন্দ প্রকাশ বা কোনও বক্তব্য দেওয়া নিষেধ। গালিগালাজ, হুমকি বা অবমাননাকর কোনও আচরণ করা যাবে না। নির্বাচনি আইন ও বিধিমালার পরিপন্থি কোনও নির্দেশনা পালন করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও যোগাযোগ সংক্রান্ত নিষেধ
নির্দেশনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনও রাজনৈতিক পোস্ট, শেয়ার বা কমেন্ট করা যাবে না। দায়িত্বকালে অপ্রয়োজনে ফোন ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা নিষিদ্ধ। ভোটগ্রহণের দিন ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় মোবাইল ফোন ব্যবহার একদমই নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়াও, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে অনৈতিক আচরণ বা অসদাচরণ করা যাবে না। নির্বাচন সংক্রান্ত সংবেদনশীল কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না। ভোটের ফলাফল বা সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী সম্পর্কে পূর্বানুমান-কথোপকথন করা নিষেধ। অফিসিয়াল রিকোয়েস্ট ছাড়া কোনও অবস্থায়ই স্পর্শকাতর ঘটনার ছবি ও ভিডিও কারও কাছে পাঠানো যাবে না।
ব্যক্তিগত আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত নির্দেশনা
নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস নিয়েও সতর্ক করা হয়েছে। কোনও ধরনের ব্যক্তিগত আলাপে মশগুল হওয়া যাবে না। একত্রে জড়ো হয়ে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করা যাবে না। জনসমাগম স্থল, খোলা জায়গায় যত্রতত্র খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে। ফুটপাত কিংবা টং দোকানে বসা যাবে না।
শেষে, নির্দেশনায় বাদাম, ভাপা পিঠা, চানাচুর, জিলাপি, বিস্কুট, কলা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার খাওয়া, অশোভন পোশাক পরিধান ও অপেশাদার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এই বিস্তারিত নির্দেশনা মেনে চললে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
