১৩তম সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় নিরাপত্তায় ১০০ প্লাটুন কোস্ট গার্ড মোতায়েন
নির্বাচনে উপকূলীয় নিরাপত্তায় ১০০ প্লাটুন কোস্ট গার্ড

১৩তম সংসদ নির্বাচনে উপকূলীয় নিরাপত্তায় ১০০ প্লাটুন কোস্ট গার্ড মোতায়েন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় উপকূলীয় অঞ্চলে ১০০ প্লাটুন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। এই মোতায়েন ৬৯টি উপকূলীয় ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রকে কভার করছে।

মোতায়েনের বিস্তারিত তথ্য

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৮ দিনের জন্য মোট ৩,৫৮৫ সদস্যকে দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে। প্লাটুনগুলো দুটি ইউনিটে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলার উপকূলীয় ও নদীবিধৌত এলাকায় বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক জানান, চাঁদপুরের মেঘনা উপকূলীয় এলাকার ২২টি ভোটকেন্দ্রে ২০০ কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নির্বাচন থেকে উদ্ভূত জনগণের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

তিনি যোগ করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ভোটকেন্দ্র মনিটরিংয়ের জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, ক্যামেরা ও ড্রোনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। "আমরা কোনো বড় ধরনের হুমকির আশঙ্কা করছি না। আমাদের উপস্থিতি ইতিমধ্যেই জনগণের আস্থা তৈরি করেছে এবং আমরা আশা করছি ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে," বলেন তিনি।

রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক উল্লেখ করেন, কোস্ট গার্ড উপকূলীয়, অভ্যন্তরীণ জলপথ ও দূরবর্তী নদীবিধৌত এলাকায় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে, বিশেষ করে চাঁদপুরের মতো জেলাগুলোতে।

পশ্চিম জোনের মোতায়েন

কোস্ট গার্ড মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, পশ্চিম জোনের অধীনে খুলনা-১, খুলনা-৬ ও পিরোজপুর-৩ আসনের ডাকোপ, কয়রা ও মঠবাড়িয়া উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ৬৬টি ভোটকেন্দ্রে কোস্ট গার্ড কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপদ ভোটগ্রহণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা কার্যক্রম, ড্রোন নজরদারি, নিয়মিত পেট্রোল ও আইনি পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কোস্ট গার্ডের প্রতিশ্রুতি

কোস্ট গার্ড সূত্রে বলা হয়েছে, গণভোট ও নির্বাচন একটি জবাবদিহিমূলক, কল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত ও যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কোস্ট গার্ড উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড জনগণ ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমর্থন দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই ব্যাপক নিরাপত্তা বিন্যাসের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের ভোটাররা নিশ্চিন্তে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের এই তৎপরতা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।