পঞ্চগড়ের বিতর্কিত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ ও বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের জন্য ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হন তিনি। সম্প্রতি পঞ্চগড়ে যোগদানের পরই তাকে প্রত্যাহার করা হলো।
প্রত্যাহারের আদেশ
সূত্রমতে, গত ৯ মে পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই আদেশে বলা হয়েছে, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার হস্তান্তর করে ১০ মের মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন।
এর আগে গত ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার রদবদল করা হয়। ওই আদেশে মো. মিজানুর রহমানকে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়। এরপর ৭ মে তিনি পঞ্চগড়ে যোগদান করেন। যোগদানের পরদিনই তিনি জরুরি কাজের কথা বলে ঢাকায় চলে যান। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা
পঞ্চগড়ে পদায়নের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে আলোচিত সাংবাদিক জুলকার নাইন শায়ের তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এসপি মিজানুর রহমানের নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি পোস্ট দেন। এরপরই সেটা নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
গত ৯ মে তার দেওয়া পোস্টে জুলকার নাইন শায়ের অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর মাধ্যমে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলির সুপারিশ করেও সফল হননি মিজানুর রহমান। তবে বিস্ময়করভাবে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময় তাকে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ওই পোস্টে দাবি করা হয়, এসপি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং বিকাশসহ বিভিন্নভাবে অধস্তন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে কোন বিবেচনায় একটি জেলার পুলিশ সুপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
পরদিন ১০ মে জুলকার নাইন শায়ের তার বিরুদ্ধে আরও একটি পোস্টে দাবি করেন, ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর এসপি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতি পরায়নতার অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং এজন্য শাস্তি হিসেবে তার এক বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছিল। তিনি তার পোস্টে জননিরাপত্তা বিভাগের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের আদেশটিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন।
প্রত্যাহারের দাবি ও প্রতিক্রিয়া
ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পর পঞ্চগড়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সদ্য নিয়োগ পাওয়া এসপি মিজানুর রহমানকে দ্রুত পঞ্চগড় থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান। ফেসবুকে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রত্যাহার আদেশের বিষয়টি সোমবার রাতে প্রকাশ্যে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের আলোচনা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সরকারি মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এরপর তার অফিসে সরাসরি গিয়েও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।



