মিরপুর টেস্টের শেষ সেশনে গতির ঝড় তুলেছিলেন নাহিদ রানা। তিনি একে একে পাকিস্তানের ব্যাটারদের সাজঘরে ফিরিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলেন। ঠিক সেই সময় ক্রিজে আসেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। প্রথম ইনিংসে শাহীনের একটি লাফিয়ে ওঠা বাউন্সার সরাসরি আঘাত করেছিল নাহিদ রানার হেলমেটে। সেই আঘাতের কথা ভোলেননি রানা; দ্বিতীয় ইনিংসে শাহীনকে শরীর তাক করা বাউন্সারে কাবু করেই ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।
অধিনায়কের মজার মন্তব্য
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই দ্বৈরথ নিয়ে বেশ মজার সুরে কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এখানে খেয়াল করার কিছু নেই। ওরাও জানে যে রানাকে বাউন্সার মারলে আবার বাউন্সার খেতে হবে। আমি হলে তো রানাকে বাউন্সার মারার ঝুঁকি নিতাম না, কারণ ওর এত জোরে বাউন্সার খাওয়ার শখ আমার নেই।’
পেস আক্রমণে পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা
অধিনায়কের এই হালকা মেজাজের মন্তব্যের আড়ালে ছিল এক বড় তৃপ্তির সুর। শান্তর মতে, বাংলাদেশ যে এখন পেস আক্রমণে পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, সেটিই দলের বড় প্রাপ্তি। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই ভালো দিক যে আমাদের এখন সেই বোলিং শক্তি আছে যার মাধ্যমে আমরা পাল্টা জবাব দিতে পারি। একটি দলের উন্নতির জন্য এই ধরনের আগ্রাসন এবং জবাব দেওয়ার মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
রানার স্পেলের পেছনে দলের রসায়ন
রানার এই দুর্দান্ত স্পেলের পেছনে কেবল গতি নয়, অধিনায়ক কৃতিত্ব দিয়েছেন দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর চমৎকার রসায়নকেও। বিশেষ করে উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিকুর রহিমের অবদানের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করেন শান্ত। তিনি জানান, অভিজ্ঞ মুশফিক বারবার রানার সঙ্গে কথা বলে তাঁকে লাইন-লেন্থ এবং সঠিক পরিকল্পনা বুঝতে সাহায্য করেছেন।
পেসারদের দাপট নতুন দিগন্ত
মিরপুরের চেনা স্পিন স্বর্গ ছাপিয়ে শেষ দিনে পেসারদের এই দাপটকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নতুন এক দিগন্ত হিসেবে দেখছেন শান্ত। তার প্রত্যাশা, এই বোলিং ইউনিট সুস্থ থাকবে এবং ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের এভাবেই নিয়মিত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।



