রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে গুলিবর্ষণ করেছে পুলিশ। গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অপরাধী দমনে পুলিশের পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণের এটিই প্রথম ঘটনা। সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান পরিচালিত হয়।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে ধানমন্ডি ২৭ এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে ছিনতাই করছিল একটি চক্র। পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা মোহাম্মদপুরের দিকে পালিয়ে যায়। মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় পৌঁছালে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করলে এক ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। অভিযানে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উদ্ধার ও গ্রেপ্তার
অভিযানস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, খেলনা পিস্তল এবং ছিনতাই করা ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পলাশ ও সাকিব। তারা আপন দুই ভাই এবং গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া অপর সদস্য বিপ্লব হোসেন তাদের আপন বোন জামাই। পুলিশ বলছে, এই ‘পারিবারিক’ চক্রটি মোটরসাইকেলে করে রাতের অন্ধকারে রাজধানী জুড়ে অটোরিকশা যাত্রী ও পথচারীদের মালামাল ছিনতাই করে আসছিল।
পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য
ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানায় ছুটে আসেন পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা ইয়াসমিন। তিনি জানান, মাত্র দুদিন আগে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তিনিও এই চক্রের কবলে পড়েছিলেন। এসপি শামীমা ইয়াসমিন বলেন, “শনিবার রাতে ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে অটোরিকশায় ফেরার সময় একটি কালো মোটরসাইকেল আমার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারী ধরার খবরে আমার ফোনটি উদ্ধার হয়েছে কি না দেখতে এসেছি, যদিও সেটি এখনো পাওয়া যায়নি।”
অভিযান অব্যাহত
রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি প্রশাসন) মীর আসাদুজ্জামান জানান, চক্রটিতে মোট ৫ জন সদস্য ছিল। তাদের ধরতে রাত থেকেই অভিযান চলছিল। ভোরে টাউন হল এলাকায় তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করলে পুলিশ ৪ রাউন্ড গুলি চালায়। এতে এক ছিনতাইকারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় এবং ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



