‘রোডক্র্যাশ রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ আবশ্যক। আইন মান্য করা ও তরুণরা সচেতনতা বৃদ্ধি রোডক্র্যাশ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’ রবিবার (১০ মে) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের প্রধান কার্যালয়ের মিলনায়তনে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের আয়োজনে ‘সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন বিষয়ে তরুণদের আলোচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তরুণদের মৃত্যু উদ্বেগজনক
তিনি বলেন, “মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি, হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে তরুণদের মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। সঠিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ এবং নিরাপদ সড়ক গঠনে সামাজিক উদ্যোগে তরুণদের আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।”
পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের ওপর জোর
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন) মুনতাসিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “রোডক্র্যাশ প্রতিরোধে আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন। সড়কে প্রাণহানির প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করে কার্যকর সমাধান গ্রহণ করা জরুরি। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সব অংশীজনকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সহ-সভাপতি ড. এস এম খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ। এসময় তারা সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
তরুণদের পক্ষ থেকে দাবি
ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা তরুণদের পক্ষে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও এর কঠোর বাস্তবায়নের দাবি উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠনের শতাধিক তরুণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তারা বলেন, জাতিসংঘের সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, চালক ও পথচারীসহ সব সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য সড়ক নিরাপত্তা শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তরুণদের নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার ওপরও তারা গুরুত্ব আরোপ করেন।



