কক্সবাজারে ইউপি সদস্য অপহরণ: ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, এলাকায় আতঙ্ক
কক্সবাজারে ইউপি সদস্য অপহরণ, ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

কক্সবাজারে ইউপি সদস্য অপহরণ: ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, এলাকায় আতঙ্ক

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ঈদগড় ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুস্তম আলীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তার পরিবারের সদস্যদের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে তাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রুস্তম আলী ঈদগাঁও থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি ঈদগড়ের উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পানের ছড়া ঢালা এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার গতিরোধ করে। অস্ত্রের মুখে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

মুক্তিপণের দাবি ও হুমকি

অপহরণের পরপরই রুস্তম আলীর পরিবারের সদস্যদের কাছে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। অপহরণকারীরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে জানায়, তারা রুস্তম মেম্বারকে অপহরণ করেছে এবং আজকের মধ্যেই ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। টাকা না দিলে তাকে প্রাণে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রুস্তম আলীর চাচা করিম মৌলভী জানান, "অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তারা অপহরণের কথা স্বীকার করে এবং ৩০ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যা করার হুমকিও দিয়েছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি।"

বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুস্তম আলী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি সদস্যের দায়িত্বের আড়ালে তিনি ডাকাতি, অপহরণ এবং সীমান্ত চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, হত্যাচেষ্টাসহ ১০টির অধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসব অভিযোগে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে কারাগারে গেছেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারো পুরোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তার পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও অভিযান

ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপহৃতকে উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে এবং অপহরণকারীদের শনাক্তে কাজ চলছে। তিনি বলেন, "এটি মুক্তিপণ নাকি পূর্ব বিরোধ বা অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

এলাকায় আতঙ্ক ও নিরাপত্তা জোরদার

ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত অপহৃত ব্যক্তির উদ্ধার কামনা করছেন।

এই অপহরণের নেপথ্যে পুরোনো বিরোধ নাকি অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে শিগগিরই অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হবে।