মাদারীপুরে টাকা ফেরতের দ্বন্দ্বে রাতের সংঘর্ষ
মাদারীপুর সদর উপজেলার নয়ারচর এলাকায় টাকা ফেরতের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রাতে টর্চলাইট জ্বালিয়ে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নয়ারচর গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে, যাতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় দুটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়ারচর এলাকার গোলাম মওলা সরদার (৫৮) ও সাগর ব্যাপারী (১৯) গুরুতরভাবে আহত হয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি আকবর মোল্লা বলেন, ‘আমি কোনো দলের না। তবু একদল লোক টেঁটা, রামদা দিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করে সব মাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমি গরিব মানুষ, এখন কী করে খাব? আমি এর বিচার চাই।’
ঘটনার পটভূমি ও সংঘর্ষের বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে গোলাম মওলা সরদারের কাছ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা নেন একই এলাকার সাইদুল ব্যাপারী। পরে গোলাম মওলা সরদার সাইদুলের কাছে টাকা ফেরত চান এবং স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। গতকাল সন্ধ্যার দিকে নয়াচর গোলচত্বরে গেলে গোলাম মওলার ওপর হামলা চালায় সাইদুল ব্যাপারী ও তাঁর লোকজন।
এ খবর নয়ারচর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় সাইদুল ও গোলাম মওলার লোকজন। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। হামলাকারীরা নয়ারচর এলাকার আকবর মোল্লাসহ দুজনের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পক্ষগুলোর বক্তব্য
আহত গোলাম মওলা সরদার বলেন, ‘আমার পাসপোর্ট ঠিক করতে টাকা নিয়ে সাইদুল কাজ করে নাই। টাকাও ফেরত দেয় নাই। টাকা চাইতে গেলে ও (সাইদুল) এলাকায় দাপট দেখাইতে আমার ওপর হামলা করেছে। আমার মাথা ও চোখে আঘাত করেছে। আমি ওর বিচার চাই।’ অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইদুল ব্যাপারী। তিনি দাবি করেন, ‘কেউ আমার কাছে টাকা পায় না। এসব মিথ্যা অভিযোগের কথা বলে ঘটনা অন্যদিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গোলাম মওলা নিজে সন্ত্রাসী ও মাদকের কারবারে জড়িত। তিনি সংঘবদ্ধ হয়ে লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর আগে হামলা চালায়।’
পুলিশের অবস্থান ও তদন্ত
নয়াচর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক বলে আজ বুধবার সকালে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি, তবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পক্ষই সকাল পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। ওসি আবুল কালাম আজাদ আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল, কিন্তু পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে টাকা ফেরতের এই দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সংঘর্ষের মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে।



