পল্লবীতে গৃহশিক্ষিকার নির্মম হত্যা, হাতে চুলের সূত্রে তদন্ত তীব্র
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় এক গৃহশিক্ষিকার নির্মম হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দারা স্তম্ভিত। ফিরোজা খানম জোসনা (৬৮) নামের এই শিক্ষিকাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে। খুনিরা এতটাই নৃশংস ছিল যে, হাতুড়ির আঘাতে তার দাঁত ভেঙে পড়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে নিহত জোসনার মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে একটি লম্বা কালো চুল পাওয়া গেছে, যা এখন তদন্তের মূল সূত্র হিসেবে কাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের অগ্রগতি
পল্লবী ১২ নম্বর এলাকার ৮ নম্বর রোডের গাজী মঞ্জিলে ভাড়া থাকতেন গৃহশিক্ষিকা ফিরোজা খানম জোসনা। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে একাই সেখানে বসবাস করতেন এবং তিন রুমের ফ্ল্যাটের মধ্যে দুই রুম সাবলেটে দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বাসায় প্রবেশ করেন জোসনা। পরদিন সকাল ১০টার দিকে দারোয়ান দরজা খোলা দেখে ভেতরে গিয়ে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তারা হতবাক হয়ে যান। পরে নিহতের ভাই থানায় মামলা করেন। তিনি জানান, বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে জোসনা টিউশনি করিয়ে জীবন চালাতেন এবং পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত ছিল। নিহতের ভাই নাজমুল আলম নাজু বলেন, "আমাদের যাতায়াত কম ছিল, তবে জোসনা মাঝে মাঝে বাবার বাড়ি বা ভাইদের বাসায় আসতেন। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।"
সাবলেট ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ ও চুলের নমুনা সংগ্রহ
চুরি-ডাকাতির কোনো আলামত না পাওয়ায় সাবলেটসহ ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাই এখন সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনের চুলের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটিয়ারা জানান, জোসনা নিজের নাম সালমা বলে পরিচয় দিতেন এবং তার স্বামী ও সন্তান রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে তাদের কেউ কখনো আসতে দেখা যায়নি।
এক সাবলেট ভাড়াটিয়া বলেন, "নিহতের হাতে চুল ছিল। লম্বা চুল, মনে হচ্ছিল কোনো নারীর চুল। আমার মেয়ের চুলের সঙ্গে মিল আছে বলে পুলিশ নমুনা নিয়েছে।" স্থানীয়রা জানান, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড তারা কল্পনাও করতে পারেননি। নিহতের সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না এবং কোনো লেনদেনের বিষয়ও জানা যায়নি।
পুলিশের তদন্ত ও বিবৃতি
ডিএমপির পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "এ ঘটনায় পূর্বশত্রুতা বা অন্য কোনো বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করতেন। পারিবারিক বা অন্য কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও আমরা তদন্ত করছি। তার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো, তবে তিনি স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্সের পর দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকতেন।"
তিনি আরও বলেন, "এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা তিন-চারটি অ্যাঙ্গেলে তদন্ত করছি। প্রাথমিকভাবে চুরি বা ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। সাবলেট ভাড়াটিয়া ও আশপাশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মোবাইলসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ভবনে সিসিটিভি না থাকায় আশপাশের ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে।"
এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তদন্ত জোরদার হয়েছে, এবং হাতে পাওয়া চুলের সূত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



