মুন্সীগঞ্জে যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ, মায়ের কান্না
মুন্সীগঞ্জে যুবক হত্যা: বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতন

মুন্সীগঞ্জে যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার দড়ি বাউশিয়া গ্রামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাকিব (২২) নামে ওই যুবককে তার ভাড়া বাসা থেকে তিন যুবক ডেকে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয় বালুরচর এলাকার নদীর পাড় থেকে তাকে উদ্ধার করার কিছুক্ষণ পরই মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিচয় ও পটভূমি

নিহত রাকিব গজারিয়া উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। দেড় বছর ধরে তারা বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় স্থানীয় নয়ন-পিয়াস গ্রুপের সঙ্গে রাকিবের সখ্যতা ছিল। দেড় বছর আগে তার পরিবার শিমুলিয়া গ্রাম ছেড়ে বাউশিয়া ইউনিয়নে চলে আসে। পরিবারসহ দড়ি বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া থেকে তিনি ফ্যান তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

মায়ের বর্ণনায় হত্যার করুণ কাহিনী

নিহতের মা রুমি বেগম বলেন, 'রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিন জন যুবক গাড়ি নিয়ে দড়ি বাউশিয়া গ্রামে আমার ভাড়া বাসায় আসে। তারা আমার ছেলেকে পিয়াসের কাছে নিয়ে যেতে চাইলে আমি আপত্তি করি। তারা জানায়, তারা আমার ছেলের পরিচিত এবং চাইলে আমি মোবাইলে তাদের ছবি তুলে রাখতে পারি। পিয়াসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তারা গাড়িতে করে ছেলেকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যাবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু রাতভর অপেক্ষা করেও ছেলে না ফেরায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় আমাদের সন্দেহ হয়।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, সোমবার সকালে তারা ছেলের সন্ধানে পিয়াসের বাড়ি গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে যাওয়ার পথে জানতে পারেন বালুরচর এলাকায় নদীর পাড়ে এক যুবককে ফেলে রাখা হয়েছে। ভোর ৫টার দিকে সেখানে গিয়ে তারা রাকিবকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। রাকিব তখন তাকে মারধর করার কথা জানান। কয়েকবার পানি খাওয়ার আকুতি জানানোর পর নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

নিহতের খালা রোজিনা বেগম বলেন, 'আমার বোনের ছেলেকে নয়ন-পিয়াসের লোকজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মেরে নদীর পাড়ে ফেলে গেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি চাই। আমাদের কাছে সব প্রমাণ রয়েছে।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের পক্ষে পিয়াস বলেন, 'রাকিব আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করতো, তার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই আমি জড়িত নই। মূলত আমার নাম বলে আমার প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার দায় আমার ওপর চাপাতে চাইছে।'

চিকিৎসক ও পুলিশের বক্তব্য

গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোলায়মান সুজন বলেন, 'নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত বা বড় কোনও জখম নেই। তবে প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।'

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, 'নিহত যুবক স্থানীয় সুপারস্টার ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন। শুনেছি, গত রাতে তিন যুবক তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'

এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন। পুলিশ বলছে, তদন্ত চলছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।