কুমিল্লায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি, ২২ লাখ টাকার মালামাল লুট
কুমিল্লায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি

কুমিল্লায় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে ডাকাতি: ২২ লাখ টাকার মালামাল লুট

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ধারেশ্বর গ্রামে এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীসহ প্রায় ২২ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে ডাকাত দল।

ঘটনার বিবরণ

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিনের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে ভুক্তভোগী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন জানান, গভীর রাতে ৮-১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল তার বাড়িতে হানা দেয়। তারা প্রথমে বাড়ির প্রধান গেইট ও ঘরের লোহার দরজা ভেঙে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল।

ঘরে প্রবেশের পর ডাকাতরা পরিবারের নারী ও শিশুদের জিম্মি করে ফেলে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। এরপর তারা ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে আলমারি, ওয়ারড্রোব ও স্যুটকেসের তালা ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নেয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লুটের বিস্তারিত

ফরিদ উদ্দিন আরও জানান, তার তিন ছেলে ইতালিতে প্রবাসে অবস্থান করছেন। তাদের পাঠানো কষ্টার্জিত টাকা, পরিবারের নারীদের স্বর্ণালংকার এবং মসজিদের জন্য রক্ষিত কিছু অর্থও ডাকাত দল লুট করে নিয়ে গেছে। ডাকাতরা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বাড়ির ভেতরে অবস্থান করে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর তার চিৎকারে আশপাশের লোক ছুটে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের তদন্ত

পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে বুড়িচং থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রাতেই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। খুব দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের তৎপরতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন জাগিয়েছে। বিশেষ করে একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতি ঘটনা অপরাধীদের স্পর্ধা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন।