‘ছাগলকাণ্ডে’র মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ১১ মে চার্জগঠন শুনানি, দুদকের অভিযোগে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ
ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে ১১ মে চার্জগঠন শুনানি

‘ছাগলকাণ্ডে’র মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ১১ মে চার্জগঠন শুনানি নির্ধারণ

এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা ও ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলার চার্জগঠন শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। আদালত আগামী ১১ মে এই শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আদালতের রায় ও আইনজীবীর বক্তব্য

সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ শারমিন আফরোজ এই শুনানির দিন ধার্য করেন। মতিউর রহমানের আইনজীবী মো. ওয়াহিদুজ্জামান লিটন ঢালি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে চলবে।” এই মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে, যা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেছে।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত অভিযোগ

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিত অভিযোগগুলো উল্লেখ করা হয়েছে:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • তার সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে এক কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে।
  • সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে পাঁচ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই অভিযোগগুলো মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি জটিল কাঠামো প্রকাশ করে, যা তার পেশাগত দায়িত্বের সুযোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৪ সালের মামলার পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১১ কোটি ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ১২০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দু’টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। প্রথম মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং এক কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়েছে। এই মামলার অভিযোগপত্র ইতিমধ্যে দুদক অনুমোদন দিয়েছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করছে।

অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলায় মতিউরের সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় শিবলীর বিরুদ্ধে এক কোটি ৮৭ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং দুই কোটি ৭৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে, এবং দুদক অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।

গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ

মতিউর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজ লাকিকে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। এই গ্রেফতার দুদকের তদন্তের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর গুরুত্বকে আরও জোরদার করে। আদালতের সামনে আসন্ন চার্জগঠন শুনানি এই মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে, যেখানে অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠিত হতে পারে।

এই মামলাটি বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং এর ফলাফল ভবিষ্যতে অনুরূপ মামলাগুলোর জন্য একটি প্রভাব ফেলতে পারে। মতিউর রহমানের আইনজীবী দল আদালতের প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তবে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।