বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় নতুন কিছু নাম চমক হিসেবে এসেছে, তবে দলের কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী নেত্রী অনুপস্থিত রয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
অনুপস্থিত নেত্রীদের তালিকা
ঘোষিত তালিকায় অনুপস্থিত রয়েছেন বিএনপির জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপাও শেষ পর্যন্ত এই তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নেত্রীদের মধ্যে মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সেলিনা হাফিজ এবং প্রয়াত বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদও মনোনয়ন পাননি। সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক নিয়েও জোর আলোচনা থাকলেও তিনি তালিকায় আসেননি। একইভাবে চীন সফরে বিএনপির সঙ্গে যাওয়া কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীনও মনোনয়ন পাননি।
তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা প্রকাশের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জন প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও দলীয় নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা
মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
এই তালিকাটি বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও নারী প্রতিনিধিত্বের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন প্রার্থীদের অন্তর্ভুক্তি দলের তরুণ ও বৈচিত্র্যময় চেহারা উপস্থাপনের লক্ষ্যে হতে পারে।



