প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে দেশীয় সক্ষমতাই হবে প্রধান শক্তি। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা, নৌ-শক্তি ও সামুদ্রিক স্বার্থ সুরক্ষায় দেশীয় নৌ-শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডকে একটি আধুনিক, কার্যকর ও অগ্রসর নৌ-শিল্প প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড পরিদর্শন
সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, নৌ-শক্তি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি ডকইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টাকে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়। এই সময় তাকে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত সক্ষমতা, আধুনিক কারিগরি সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উৎপাদন কার্যক্রম, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। পরে তিনি ডকইয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ওয়ার্কশপ, উৎপাদন এলাকা, মেরামত সুবিধা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
গুণগত মান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর জোর
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ডকইয়ার্ডের প্রতিটি কার্যক্রমে গুণগত মান, সময়নিষ্ঠতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
দেশীয় সম্পদ ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার
তিনি বলেন, দেশীয় সম্পদ, দেশীয় দক্ষতা এবং দেশীয় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড শুধু একটি জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের সামুদ্রিক সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং আত্মনির্ভরশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই এর প্রতিটি প্রকল্প, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নিতে হবে।
কর্মীদের প্রশংসা ও দায়িত্ববোধের আহ্বান
তিনি ডকইয়ার্ডে কর্মরত কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, কারিগরি জনবল ও কর্মচারীদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা এবং কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি সকলকে দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড ভবিষ্যতে দেশের নৌ ও সামুদ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং প্রতিরক্ষা খাতের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে একটি শক্তিশালী সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসাবে আরও বিকশিত হবে। এজন্য তিনি চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।



