খাগড়াছড়ির রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কে শ্যামলী পরিবহণের একটি নৈশকোচের বক্সের খোলা দরজার আঘাতে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুইজন। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া ওই বাসের চালকের মরদেহ পরে একটি যাত্রীছাউনি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার রাত ১২টার দিকে রামগড়-জালিয়াপাড়া সড়কের চাষীনগর এলাকায় শান্তি পরিবহণের একটি নৈশবাসের চাকা বিস্ফোরিত হয়। এতে যাত্রীরা নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহণের একটি এসি নৈশকোচ দ্রুতগতিতে এসে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বক্সের খোলা দরজার আঘাতে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই শাহ আলম নামে এক যাত্রী নিহত হন। শাহ আলম (৩৫) খাগড়াছড়ি সদরের শান্তিনগর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। আহতরা হলেন জুনায়েত (২৫) ও রুবেল কর্মকার (৩৫)।
পালিয়ে যাওয়া চালকের মরদেহ উদ্ধার
দুর্ঘটনার পর শ্যামলী বাসের চালকসহ স্টাফরা গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান বলে জানায় পুলিশ। পরে সোমবার (১৮ মে) সকালে নাকাপা বাজার এলাকার একটি যাত্রী ছাউনি থেকে চালক মো. রব শেখ (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাত্রী ছাউনিতে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে বেঞ্চে শুয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমের মধ্যেই তিনি স্ট্রোক করে মারা যান।
পুলিশের বক্তব্য
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে রামগড় থানাধীন নাকাপা ক্যাম্পের পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে রামগড় হাসপাতালে পাঠায়।
এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরবর্তী নাকাপা বাজার সংলগ্ন নাকাপা হাইস্কুল প্রবেশদ্বারের যাত্রী ছাউনী থেকে সোমবার সকালে ঐ শ্যামলী বাসের চালক রব শেখের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওসি জানান, তার পকেটে পাওয়া এনআইডি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখে নাম পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, চাষীনগরে দুর্ঘটনার পর শ্যামলী বাসের চালকসহ অন্য স্টাফরা গাড়ি রেখে পালিয়ে যান। চালক রব পালিয়ে নাকাপার যাত্রী ছাউনীতে এসে পরনের জামা পরিবর্তন করেন। পরে তিনি যাত্রীছাউনীতে কাঠের বেঞ্চে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন। ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম আরও জানান, তার আত্মীয়-স্বজনরা রামগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।



