জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি: সদস্য ও কাজের পদ্ধতি
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি: সদস্য ও কাজের পদ্ধতি

মুসলমানরা ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে। এই বর্ষপঞ্জি চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। তাই মুসলিম দেশগুলোতে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নামাজ, রোজা, ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় বিধিবিধান পালন করা হয়। বাংলাদেশে এ কাজের জন্য রয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। প্রতি হিজরি মাসের ২৯ তারিখে সভা করে এই কমিটি, চাঁদ দেখা না দেখার ভিত্তিতে পরবর্তী মাসের তারিখ ঘোষণা করে।

ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জি ও ঈদুল আজহা

ইসলামি চন্দ্র বর্ষপঞ্জি বা আরবি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঈদুল আজহা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে উদযাপিত হয়। এ উপলক্ষে সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখতে কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা

বাংলাদেশে চাঁদ দেখার জন্য রয়েছে ‘জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি’। সারা বছর চাঁদ দেখা কমিটি নিয়ে তেমন আলোচনা না থাকলেও ঈদের আগে আলোচনার কেন্দ্রে থাকে এই কমিটি। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা প্রতিমন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি। সদস্য সচিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক। কমিটিতে ১৮ জন সদস্য রয়েছেন। মূলত সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রধানরা পদাধিকার বলে সদস্য। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সদস্যরা সভায় উপস্থিত না হয়ে তাদের পরিবর্তে মনোনীত প্রতিনিধি পাঠান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কমিটিতে রয়েছেন— ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের প্রশাসক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, সরকারি মাদ্রাসা-ই আলিয়ার অধ্যক্ষ, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব ও সিনিয়র পেশ ইমাম, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব এবং চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা পর্যায়ে চাঁদ দেখা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, প্রতিটি জেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস রয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটিও চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করে।

চাঁদ দেখার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া

ইসলামিক ফাউন্ডেশন-বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিটির সদস্য কিংবা মনোনীত প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। তবে কেউই সরাসরি চাঁদ দেখেন না। বিগত বছরগুলোতে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা গেলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন চাঁদ দেখতে যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৯ সালে অপটিক্যাল থিওডোলাইট যন্ত্র কেনা হয়। সেই যন্ত্র দিয়ে ঢাকার বায়তুল মোকাররমের পাশে বহুতল ভবনের ছাদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদফতরের কর্মীরা চাঁদ দেখেন। আকাশে মেঘ না থাকলে এই যন্ত্র দিয়ে চাঁদ দেখে কমিটিকে অবহিত করা হয়। পরে কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়।

বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য। তবে তিনি সভায় উপস্থিত হতে না পারলে সংস্থার মনোনীত প্রতিনিধি সভায় যোগ দেন।

কমিটির কার্যক্রম সমন্বয়

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির দ্বিনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক আনিছুর রহমান সরকার সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন।