বেইজিংয়ের রানওয়েতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী বিশালকার ‘এয়ার ফোরস ওয়ান’ বিমানটি অবতরণ করছে। ইঞ্জিনের প্রচণ্ড গর্জন আর বাতাসের তীব্র ঝাপটার মধ্যেই ঠিক পাশে মূর্তির মতো স্থির দাঁড়িয়ে আছেন এক চীনা সামরিক কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ওই সেনাসদস্যের অবিশ্বাস্য ধৈর্য ও শৃঙ্খলা দেখে হতবাক নেটিজেনরা।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (১৩ মে) ট্রাম্প বেইজিংয়ে পৌঁছানোর সময় এই ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল বোয়িং বিমানটি যখন ওই কর্মকর্তার খুব কাছ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি সামান্যতম নড়াচড়া করেননি।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। অনেকেই একে কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের ফল হিসেবে দেখছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, এয়ার ফোরস ওয়ানের ইঞ্জিনের পাশে এভাবে স্থির দাঁড়িয়ে থাকাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য পর্যায়ের শৃঙ্খলা। আরেকজন লিখেছেন, বিশাল ওই ইঞ্জিনের পাশে আমি দাঁড়িয়ে থাকলে বিমান থামার আগেই আমার কানের পর্দা আর পা জবাব দিয়ে দিত। এই লোকটা সত্যিই দুর্ধর্ষ!
বিতর্ক ও বিশ্লেষণ
তবে এই স্থিরতা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এভাবে দাঁড়িয়ে থাকাটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল কি না, কিংবা বিমানের ইঞ্জিনের বাতাসে তিনি উড়ে যেতে পারতেন কি না। তবে আরেক সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীর মতে, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে বিমানটিকে যতটা কাছে মনে হচ্ছে, বাস্তবে সেটি ততটা কাছে ছিল না।
কানের সুরক্ষা নিয়ে কৌতূহল
ওই কর্মকর্তার কানে সুরক্ষা সরঞ্জাম ছিল কি না, তা নিয়েও কৌতূহল দেখা গেছে অনেকের মধ্যে। একজন লিখেছেন, নিশ্চয়ই তিনি ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করছেন, নাহলে এতক্ষণে বধির হয়ে যেতেন। অন্য একজন এর ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি একজন পেশাদার সেনা এবং আগেও এমনটা করেছেন। ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় তিনি তো আর দৌড় দেবেন না!
ইন্টারনেটে 'টক অব দ্য টাউন'
ঝুঁকি আর শৃঙ্খলা বিতর্ক যাই হোক না কেন, এয়ার ফোরস ওয়ানের গর্জনের সামনে ওই সেনাসদস্যের অটল দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি এখন ইন্টারনেটে রীতিমতো ‘টক অব দ্য টাউন’। একজন ব্যবহারকারী আবেগপ্রবণ হয়ে মন্তব্য করেছেন, আমরা এই সেনাদের যোগ্য নই।
সূত্র: উইয়ন নিউজ



