নরসিংদী-৪ থেকে নির্বাচিত সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ

নরসিংদী-৪ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের মন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ

নরসিংদী-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নবগঠিত মন্ত্রিসভায় তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। বিএনপি থেকে চারবার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য এবার প্রথমবারের মতো মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।

শপথগ্রহণে এলাকায় উৎসবের আমেজ

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রী হিসেবে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের শপথগ্রহণ উপলক্ষে তার এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেন। মনোহরদী ও বেলাব উপজেলার ঘরে ঘরে খুশির জোয়ার বইছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর গ্রামের সরদার আসমত আলীর ছেলে হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও নির্বাচনী সাফল্য

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা সরদার সাখাওয়াত হোসেন নরসিংদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ছিলেন। ১৯৯১ সালে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবার প্রার্থী হয়েই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

ওই বছরের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক সেনাপ্রধান নুর উদ্দিন খানের কাছে তিনি পরাজিত হন। তবে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুর উদ্দিন খানকে পরাজিত করে তিনি আবার সংসদ সদস্য হন।

এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৯১২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৫ ভোট।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও আশাবাদ

মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুর রহমান সরকার বলেন, সরদার সাখাওয়াত হোসেনের মন্ত্রিত্ব পাওয়ার খবরে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। তিনি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় এই জনপদের চিত্র পাল্টে যাবে—এমন আশা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনসেবার মনোভাব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এলাকাবাসী এখন নতুন মন্ত্রীর কার্যক্রমের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন, যাতে উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।