মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তি বাতিল: ব্যক্তিগত কারণেই আবেদন, নির্বাচনের জন্য দায়িত্বে ছিলেন
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তি বাতিল: ব্যক্তিগত কারণেই আবেদন

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের চুক্তি বাতিল নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন প্রেস সচিব

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল। এই প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে বিষয়টি খোলাসা করেছেন।

ব্যক্তিগত কারণেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন

প্রেস সচিব শফিকুল আলম লিখেছেন, 'মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের অপতথ্য ও অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে।' তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রকৃতপক্ষে ড. রশীদ ব্যক্তিগত কারণেই নির্বাচনের কিছু দিন আগেই প্রধান উপদেষ্টার কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছিলেন।

তবে নির্বাচন সন্নিকটে চলে আসায় মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তিনি নির্বাচনকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে সম্মত হন। এই সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য গৃহীত হয়েছিল বলে প্রেস সচিব জানান।

অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ

শফিকুল আলম বিষয়টি নিয়ে অহেতুক অনুমাননির্ভর তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই নিয়োগ বাতিলের পেছনে কোনো গোপন বা রাজনৈতিক কারণ নেই, বরং এটি সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার ফলাফল।

প্রজ্ঞাপন জারি ও নতুন দায়িত্ব বণ্টন

উল্লেখ্য, শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই পদে নতুন করে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব (চুক্তিভিত্তিক) এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব (চুক্তিভিত্তিক) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যা সরকারের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনটি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রেস সচিবের এই স্পষ্টীকরণের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।